বন্যার্তদের খোঁজ পেতে নেটজুড়ে স্বজনের আর্তনাদ, তারকাদের সহায়তার আহ্বান

২২ আগষ্ট, ২০২৪ ১৭:০৪  

বন্যায় সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় খোঁজ নিতে পারছেন না স্বজনরা। এ বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার শরণাপন্ন হচ্ছেন তারা। তাদের পোস্টে উঠে এসেছে হতাশা ও আর্তনাদ। এদেরই একজন জাকিয়া শিশির ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ফেনীতে কোনো উদ্ধারকারী থাকলে সাড়া দিন। দুইটি ছোট বাচ্চা নিয়ে বিপদে আছে। পুরো ঘর ডুবে গেছে।’ রফিকুল ইসলাম রনি লিখেছেন, হে আল্লাহ তুমি বানভাসি মানুষকে রক্ষা কর। তুমি রক্ষাকর্তা, তুমি সর্বশক্তিমান।

সাংবাদিক আদিত্য আরাফাতের পোস্ট চোখে পানি এনেছে অনেকের। তিনি লিখেছেন, আমি ভেঙ্গে পড়েছি। হতাশ হয়ে পড়েছি। এখন শুধু পরম করুণাময় পারেন আমার বাবা মাকে বাঁচাতে। আমার বাবা মা কখনো বন্যা দেখেনি। ফেনী শহরের কাছে আমাদের গ্রামে কখনো বন্যা আসেনি। আমার বয়োজ্যষ্ঠ বাবা মা জানে না কীভাবে বন্যা মোকাবিলা করতে হয়। ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় আমি বাবা মায়ের কণ্ঠস্বর শুনছি না। ফেসবুকে অনেকগুলো সাহায্যের নাম্বার দেখেছি। অনেক নাম্বারে যোগাযোগ করতে গিয়ে নাম্বার বন্ধ দেখেছি। অনেক বড় বড় জায়গা থেকেও আমাকে ফোন দেয়া হয়েছে। শান্তনা দেয়া হয়েছে। সবাই চেষ্টার কথা বলছেন। কিন্তু আমিতো আমার মা বাবার কোনো খবরই জানতে পারলাম না। আমার আত্মীয় স্বজন, ফেনীর সাংবাদিক, বন্ধু-বান্ধব সবার নাম্বার বন্ধ পাচ্ছি। আমার বাবা পারকিনসনের রোগী। মা শ্বাসকষ্টের রোগী। কেউ যদি আমার বাবা মাকে উদ্ধার করতে পারেন আপাতত ফেনীর মূল শহরে আমার বড় ভাইয়ের বাসায় রেখে আসুন। আমার বাবা অন্তত সাহায্যকারীদের বড় ভাইয়ের বাসার ঠিকানা দিতে পারবে। বলতে পারবে। ফেনীতে আমার বাবা মা এখন রয়েছে আমাদের গ্রামের বাড়িতে।

এমন ঘোরতর বিপদে আক্রান্তদের পাশে থাকতে গেট আপ স্ট্যান্ড আপের কার্ডটি ফেসবুকে পোস্ট করেছে আর্টসেল, শিরোনামহীন, আরবোভাইরাস, নেমেসিস, সোনার বাংলা সার্কাস, হাইওয়েসহ আরও কয়েকটি ব্যান্ড।

বন্যার্তদের আর্তনাদে সাড়া দিয়ে নির্মাতা রেদওয়ান রনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ নম্বর দিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মানুষ বাঁচলে ক্ষতি আমরা পুষিয়ে নেব, পানির হিস্যা অবশ্যই বুঝে নেব, কখন কে গেট ছেড়েছে, সব মনে রেখে অধিকার ঠিকই কড়ায়–গন্ডায় আদায় করা হবে। শুধু এই মুহূর্তে দরকার মানুষগুলোকে বাঁচানো। নতুন জোয়ারে সব সংস্কার করে ফেলা যাবে। কিন্তু এই বন্যার পানির জোয়ারে আগে মানুষগুলোকে বাঁচানো দরকার। এই মানুষগুলোই দেশ গড়বে। চলেন, আরেকবার সাড়া দিই দেশের ছাত্র–জনতা, বুদ্ধিজীবী, উপদেষ্টা, নাগরিক সমাজ, শিক্ষিত সমাজ আর সব সাধারণ মানুষ; আমরা যুদ্ধ করতে জানি, হোক সেটা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বা অমানুষসৃষ্ট বন্যা অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ—আমরা যে পারি, আরেকবার দেখাই।’

অস্ট্রেলিয়া থেকে অভিনেত্রী শাবনূর লিখেছেন, ‘আল্লাহ, দেশের মানুষগুলোকে রক্ষা করো।’

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আসুন, আমরা সবাই বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াই।’ তিনি কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রের ঠিকানা পোস্ট করেছেন।

চিত্রনায়িকা পরীমনি লিখেছেন, ‘আল্লাহ! কী করব আমি! বুকের ভেতর দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। এই চোখের দিকে তাকিয়ে কী করে ঘুমাব! আল্লাহ তুমি সহায় হও। কেউ নেই আর এখন। আমি যাব। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে যা করার, করব ইনশা আল্লাহ।’

চিত্রনায়ক জায়েদ খান লিখেছেন, ‘কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়। এটা দেখার পর মানুষ কীভাবে থাকে। বুকের ভেতরটা কাঁদছে, যতবার দেখছি। আল্লাহ, আপনি এই মাছুম বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে বানভাসি মানুষদের হেফাজত করেন।’

ফেনীর অধিবাসী ই-ক্যাব জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোহম্মাদ সাহাব উদ্দিন শিপন লিখেছেন, ঘোপাল ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে! বিশেষ করে দুর্গাপুর, সিংহনগর, ঘোপাল, দৌলতপুর, লাঙ্গল মোড়া এবং নিজকুনজরা এলাকার মানুষজন চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা বাড়ির টিনের চাল এবং ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষের জীবন এখন চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। তাদের দ্রুত উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা সরকার এবং সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছি, দয়া করে স্পিড বোর্ড নিয়ে এই এলাকাগুলোর দিকে নজর দিন এবং বিপদগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করুন। ভারতের কারণে সৃষ্ট এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি থেকে আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন।

সাংবাদিক কাজী মুস্তাফিজ লিখেছেন, ফেনীর ফাইনাল আপডেট হচ্ছে পুরা ফেনী তলিয়ে গেছে। ইলেক্ট্রিসিটি , মোবাইল নেটওয়ার্ক কিছুই নেই। দুয়েক ঘন্টা পরে ফেনীর ভেতর থেকে আর কোনো খবর মোটেও পাওয়া যাবেনা। এখনো যদি রাষ্ট্র সর্বসর্বশক্তি দিয়ে ঝাপিয়ে না পড়ে লক্ষাধিক প্রাণহানি ঘটে যাবে। কারো সাথে কারো যোগাযোগ নেই। ভলান্টারিং অনেকাংশে ভেঙে পড়েছে, সবাই প্রাণ বাচাতে ব্যস্ত।

সাজ্জাদ সাব্বির লিখেছেন, আমার গ্রাম ধর্মপু্রের মানুষের জন্য যারা এগিয়ে এসেছেন আপনাদের যেকোনো প্রয়োজন আমাকে জানাবেন দয়া করে। আমাকে হক আদায়ের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবেন না।

ইউসুফ আহমেদ তুহিন লিখেছেন, নোয়াখালীর মাইজদীতে আমাদের বাসার নিচের তলা পানির নিচে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মোহাম্মাদ ইলমুল হক সজীব লেছেখেন, আমরা এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। বিশেষ করে ফেনীতে। গত কাল সারা রাত কাজ করে ই-ক্যাব টিম ৩ টা স্পিড বোট ঢাকা থেকে জোগাড় করে, তারপর ফেনীতে পাঠানো হয়েছে ট্রাকে করে। আজকে মানুষ বাঁচাতে কাজ করে যাচ্ছে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সাথে। তীব্র স্রোত যেখানে স্পীড বোট উল্টে যাচ্ছে, মানুষের বাঁচার হাহাকার এবং বিরূপ পরিস্থিতিতে আমাদের অকুতোভয় ভলান্টিয়াররা জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটা মানুষের সহযোগীতা সত্যিই অতুলনীয়।